Posts

Showing posts from November, 2025

আবহমান

দখলদার ভবানী ঘটক পরম্পরা প্রকাশন দাম ৩৫০ টাকা   কুন্দেরার দ্য আর্ট অফ নভেলে  প্রাগের এক এঞ্জিনিয়ারের গল্প ছিল- প্রাগ থেকে তিনি লন্ডনে এক কনফারেন্সে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন দেশে। পরদিন নিজের অফিসে বসে কম্যুনিস্ট পার্টি অফ চেকোস্লোভাকিয়ার দৈনিক মুখপত্রটিতে চোখ বোলাতে গিয়ে দেখছেন, যে এক চেক এঞ্জিনিয়ার লন্ডনে কনফারেন্সে গিয়ে তাঁর সোশালিস্ট জন্মভূমি নিয়ে  প্রেসের কাছে নিন্দাসূচক কথাবার্তা বলে তারপর ওখানেই রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন; এই রকম অবৈধ উপায়ে দেশত্যাগ তদুপরি প্রেসের কাছে উল্টোপাল্টা কথা -এতে কমসে কম কুড়ি বছরের জেল হওয়া উচিত ইত্যাদি। এঞ্জিনিয়ার যখন খবরটি পড়ছেন, তাঁর সেক্রেটারি ঘরে ঢুকে প্রায় মূর্ছা যান -আপনি  এখানে! ওদিকে খবরের কাগজে দেখেছেন তো! এ কী কাণ্ড!!! এঞ্জিনিয়ার গেলেন কাগজের অফিসে। সম্পাদক ক্ষমা চেয়ে বললেন, মিনিস্ট্রি অফ ইন্টিরিয়র থেকে সরাসরি খবর এসেছে, আমার কিছু করার নেই এক্ষেত্রে। এঞ্জিনিয়ার দৌড়োলেন মিনিস্ট্রিতে। তাঁরা বললেন, মিসটেক, মিসটেক। আমরা লন্ডন এম্ব্যাসি থেকে খবর পেয়েছিলাম; খবর প্রত্যাহার করা যাবে না কিন্তু নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনার কোনো ভয় নেই...

এলিজি

প্রকাণ্ড হাঁসের পিঠে উড়ে বেড়াচ্ছি; পায়ের তলায় ময়দার দলার মতো মেঘ, তারও নিচে চৌকোনা জমি - সবুজ, হলুদ, বাদামী, লালচে রঙের খোপ পাশাপাশি; যেন বুড়ো আংলার মলাট আচমকা থ্রি ডি হয়ে গিয়ে আমাকে টেনে নিয়েছে তার ভিতরে। সামান্য মাথা ঘুরছিল তারপর হঠাৎ খুব শীত করে উঠল - মনে হল ঠাণ্ডা জলে পড়ে গিয়েছি। ধড়মড়িয়ে উঠে দেখি , গায়ের ওপর থেকে কখন যেন লেপ সরে গিয়েছে, মুখের ওপর মশারি ঈষৎ ঝুঁকে - ঘোলাটে অন্ধকার আর ন্যাপথালিনের গন্ধে সমস্ত ঘর থম মারা। লেপের তলায় শীত করছিল। পুরোনো স্যাঁতানো লেপ। তবে ওয়াড় খড়খড়ে নতুন। আমি আসব বলে মীরাদি সদ্যই কিনে এনেছে হয়তো। শোয়ার সময় খেয়াল করেছিলাম,  বালিশের ঢাকনা , বিছানার চাদর সব নতুন;  বালিশের ওপর ছোটো তোয়ালেতে দামের স্টিকার আটকে রয়েছে। মীরাদি বিসলেরির বোতল খাটের পাশে রেখে দিয়ে বলেছিল, " একটা লেপে হবে তোমার? পায়ের কাছে কম্বল রাখব? শীত করলে টেনে নিও।" " তেমন ঠাণ্ডা নয় তো"- পায়ের কাছে আবার একটা কম্বলের উপস্থিতি অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। রাতে সত্যি তেমন শীতও করে নি । অথচ এখন করছে। লেপটা মাথা অবধি টেনে স্বপ্নের কথা ভাবছিলাম; লেপের খোলে প্রাচীন শিমূল তুলোরা সব ড্যালা ...

অ্যানাগ্রাম

 - তোরা কি শেষ অবধি যাবি? - মানে শ্মশানে যাবো কি না বলছিস? "শেষ অবধি মানে তো তাই, না?"- সাইড মিরর দেখে নিয়ে একবার ঘাড় ঘোরালো অশোক, তারপর আবার সামনে। নীরবতার স্ট্রেচ তৈরি হল একটা; সুপ্রিয়া বাইরের কুয়াশায় তাকিয়ে রইল, পিছনের সীটে পৃথ্বীশ আর আমি পরস্পরকে একবার দেখে নিলাম যেন গো গো গো গো স্ট্যাচু খেলার ডাক দিয়েছে কেউ, আর আমরা সে খেলায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য পারস্পরিক অনুমোদন চাইছি যা অনাবশ্যক অথচ অবশ্যম্ভাবী। সুপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে নিয়ে অশোকই কথা বলে উঠল আবার - "স্নেহর ওখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারব না বুঝলি? আসলে, সুপ্রিয়ার পিসির বাৎসরিক আজ - বেহালায় যেতে হবে। তোরা তবে ফিরবি কী ভাবে? শ্মশানে যাস যদি. উবার নিবি?" "ভাবি নি কিছু, ওখানে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে.. মানে স্নেহময়ের লোকবল কেমন সেটা বুঝে…" - পৃথ্বীশ জানলার কাচ নামাল সামান্য। একটা শ্বাস ফেলল আওয়াজ করে। গুমোট কাটানোর জন্য ঐ শ্বাসটুকু লুফে নিয়েই তাতে কথা জুড়ে দিলাম আমি- " ট্রেনে ফিরে আসব, স্নেহদের বাড়ির কাছেই স্টেশন। মনে নেই?"  শেষ দুটি শব্দ ভর করে পুরোনো কথাদের আসা উচিত;  অথচ অশোক বর্তমানেই - "কা...