হ্যালোউইনের পাড়া
রাস্তায় বেরোতে চায় না ও, মানুষের ধারে কাছেই ঘেঁষতে চায় না, দূর থেকে দেখে। ওর ঝুলে পড়া কোঁচকানো ত্বক- কর্কশ ও অস্বাস্থ্যকর কালচে, উঁচিয়ে থাকা নীল সবুজ শিরা উপশিরা, শরীরময় রহস্যজনক কালো খয়েরি ছোপছাপ, জুতো মোজা হীন ফোলা পায়ের পাতা, ধারালো নখ, রুক্ষ চুল; স্নান না করা ময়লা জমা শরীরে প্রাচীন ও একমাত্র ড্রেসিং গাউন, অন্তর্বাসহীন। ও বাজার করে না, ফলে, রান্নাও নয়। ওর ভাইপো কিম্বা ভাইঝি, নাতি অথবা নাতনি বা সহৃদয় পড়শিদের কেউ প্রতি রবিবার ওর বাড়ির সামনের বারান্দায় ওষুধ আর খাবার রেখে , দরজায় টোকা দিয়েই হাওয়া হয়ে যায়। দরজা সামান্য ফাঁক করে ওর শিরা ওঠা শীর্ণ হাত সেসব ভিতরে টেনে নেয়। ওর শোয়ার ঘর থেকে রাস্তা দেখা যায় না, সারাদিন বাইরের ঘরের সোফায় বসে পর্দা সরিয়ে পাড়া দেখে ও। আয়তক্ষেত্রাকার জানলার বাইরে পাড়ার পথ, লম্বা লম্বা ইউক্যালিপটাস থেকে বাকল খসে পড়ছে , উল্টোদিকের বাড়ির কেয়ারি করা বাগানে নুড়ি বিছানো, ছোটো গাছ, বাহারি লেটার বক্স। এ' সব দৃশ্য ওর জানলা থেকে দিনের আলোয় একরকম, রাতে একেবারে আলাদা; প্রায় মাঝরাতে ও যখন চুপিসারে ট্র্যাশ বিনে ময়লা ভরা...