হরিণের কাছাকাছি
১ এই গল্পটা শুরু করতে গেলে আমাকে দিদার মাথার মধ্যে ঢুকতে হবে -পিঁপড়ের মত একটা রোবট ছেড়ে দিই দিদার ঘরে? প্রোগ্রাম মাফিক, লাল মেঝে বেয়ে বেয়ে খাটের পায়ায় উঠুক, বিছানার চাদর, বালিশের ঢাকা পেরোক, সিঁথিতে ছোট্টো ড্রিল করুক কপাল ঘেঁষে; তারপর মগজে একটা ক্যামেরা ঢুকিয়ে দিক টুক করে। দিদার স্মৃতি কোথায় আছে, আদৌ আছে কী - ধরে নেওয়া যাক ক্যামেরা জানে; এই মুহূর্তে ক্যামেরা যেন দেখছে অতিকায় এক পাত্র ভর্তি শশাকুচি, সূর্যমুখীর বীজ, গাজরের ফালি, ডুমো ডুমো কুমড়ো, বাদাম, ডালিমের দানা, আর বড় বড় লেটুস পাতা- আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে রাখা নয়, সব একসঙ্গে, উপচে পড়ছে যেন; কোথাও সবুজ পাতা পচে নেতিয়ে গেছে, কোথাও কচকচে জ্যান্ত; কোথাও আবার পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে চেরি টমাটো, বেগনে পেয়াঁজ, চীজের ছোটো কিউব, কোথাও যেন ড্রেসিংএর ভারে আলাদা করে কিচ্ছু চেনার জো নেই, কোথাও আবার একরাশ জটপাকানো নুডলসের সুতো - একটা স্তূপের মত- ক্যামেরা খুব কাছে গেলেই সে সব ছিটকে যাচ্ছে এদিক ওদিক, ঢেকে দিচ্ছে লেন্স আবার দুটো বড় বড় পাতার তলায় যেন জল দেখা গেল- তলায় শ্যাওলা, নুড়িপাথর; রঙীন মাছ খলবল খলবল ভেসে বেড়ায়, ঘাই দেয়- একরাশ বুদবুদ ওঠে তখন...