Posts

সিম্পল প্যাশন

 আমি কখনও নীল ছবি দেখি নি । ল্যাপটপ কিম্বা টেলিভিশনের স্ক্রীনে যোনি আর পুরুষাঙ্গর ঘর্ষণ দেখার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না যা থেকে তীব্র কোনো অভিঘাত তৈরি হতে পারে। এই সব দৃশ্যের ক্লোজ আপে, ক্যামেরার বিভিন্ন অ্যাঙ্গলে নৈতিকতার বোধ চুরমার হয়ে নেশা তৈরি হয়,  নারীর নাভির ওপর  বীর্য পড়ে থাকার মত কিছু উদ্বেগের ছিটে তাতে। লেখাদের এরকম হওয়ার কথা। আমি এমন লিখি নি কোনদিন। এযাবৎ আমার ভূমিকা বরং সেই স্প্যানিশ সিনেমার লেখক চরিত্রের মতো - নিরিবিলিতে লিখবে বলে  শহর থেকে দূরে এক গঞ্জে এসেছিল  যেখানে  একদল নেকড়ে আর সে  ছিল সম্পূর্ণ বহিরাগত। সিনেমাটা আমি দশ মিনিট দেখে বন্ধ করে দিই, যখন লেখকের গায়ে আউটসাইডারের তকমা স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম; দেখছিলাম সেই শহরের যাবতীয় রহস্য লেখকের সামনে একই সঙ্গে উন্মোচিত  এবং গোপন। ঠিক এইখানে আমি সিনেমা দেখা থামিয়ে একটা শহর বানাই মনে মনে,  বাকি গল্পটা ভেবে নিতে থাকি আর ঐ লেখকের সঙ্গে আইডেন্টিফাই করি নিজেকে- ফ্রেমের বাইরে একজন কমপ্লিট আউটসাইডার। অথবা অনেক দূরের এক আখাম্বা হাওয়াকল, বাতাস ঘুরিয়ে আখ্যান তৈরি করে জনপদে ফিরিয়ে দেওয়া যার কাজ। এয়া...

তিমি দেখার দিন

- তিমি তো মাউন্ট এভারেস্ট নয়,  কোনো মহাসাগর টাগরও নয় , সুনামি নয়, অরোরা বোরিয়ালিস নয়- - কী বলতে চাইছ এক্জ্যাক্টলি? - নীলুদাকে হোয়েল ওয়াচিং এ নিয়ে যাচ্ছি কেন বুঝতে পারছি না। বাচ্চু যে আমার উত্তর শুনতে চাইছে না, এ সবই স্রেফ স্বগতোক্তি - স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ওকে ভয়ানক অস্থির দেখাচ্ছে এখন;  ল্যাপটপের সামনে চশমা খুলে চোখ রগড়াচ্ছে, মাথায় হাত রাখছে ঘন ঘন; দেখছিলাম, ঢেউখেলানো পাকা চুলের গোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে ওর আঙুল, গোছা ধরে টান মারছে যেন কোনো ফলিকলের অভ্যন্তরে  ওর জিজ্ঞাসার উত্তর লুকোনো  রয়েছে, এবং সেই অবস্থান চিহ্নিত করতে পারলেই এই সব অবিরত প্রশ্ন থেমে যাবে। সে সব কিছুই ঘটছিল না এই মুহূর্তে , বরং বাচ্চুর অস্থিরতা আমাদের ঘরদোরে ছড়িয়ে পড়ছিল যেন এমন এক ব্যাপন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে যেখানে উচ্চ ঘনমাত্রার স্থানে স্বয়ং মৃত্যু ; ফলে  এবার আমি মুখ না খুললে মুহূর্তের মধ্যে  ব্যাপন সম্পন্ন হবে, এ ঘরের হাওয়াবাতাসে মৃত্যু আর নশ্বরতার রং গাঢ় থেকে গাঢ়তর হতে হতে স্থায়ী হয়ে যাবে একসময়। " নীলুদা খুব বড় কিছু দেখতে চাইছে চলে যাওয়ার আগে", আমি বলে উঠলাম।  - সে তো জানি, রুবি...

চরাচরের পাখিরা

  এই সব বিকেলে ক্রিকেটম্যাচের শেষটুকু না দেখে চলে যাওয়া অসমীচীন;   যখন রোদ পড়ে আসে, ছায়া দীর্ঘ এবং পূর্বগামী, সঙ্গী বলতে খুচরো কিছু বিষণ্ণতা আর দুশ্চিন্তা, সেই সময়ে পাড়ার মাঠে খেলা চলতে দেখলে, দাঁড়িয়ে পড়েছি। বরাবর। পাড়ার না বেপাড়ার দল, রাউন্ড রবিন না নক আউট , সেমিফাইনাল না কি ফাইনাল জানার প্রয়োজন বোধ করি নি। স্রেফ দাঁড়িয়ে গিয়েছি। ম্যাচের শেষ ওভার যেন এক এসকেপ রুট খুলে দেয়। হয়তো পরপর বাউন্ডারি অথবা সিক্সার, হয়তো একটা রান আউট, কিংবা লং অনের ওপর লোপ্পা ক্যাচ আর তারপরেই খেলোয়াড় আর সমর্থকদের লাফিয়ে ওঠা, স্টাম্প   খুলে নিয়ে মাঠময় দৌড়োতে থাকা - এই সব দৃশ্য এবং মুহূর্তরা   অকারণ উত্তেজনা আর আনন্দের সঞ্চার করে, স্যাঁতস্যাঁতে অনুজ্জ্বল সন্ধ্যার প্রাক্কালে যাকে অভাবিত লাগে তখন। আজ এখন সেই রকমই কিছু ঘটছিল।   বড় রাস্তায় বাস থেকে নেমে তরুণ সঙ্ঘের দিকে হাঁটতে হাঁটতে একটা মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছি। আসলে, মিতুলদি উবের বা হলুদ ট্যাক্সি নিতে বারণ করেছিল- " অত টাকা ট্যাক্সি কম্পানিকে দেওয়ার কোনো মানে হয়? এখন বুঝবি না, বয়স হলে, অসুখে বিসুখে টাকার মূল্য বোঝা যায়। আর তুই জোয়ান ছেলে-...

কাজলের ঘনত্ব

  কাল রাতে আমি সম্ভবত রামেসিস হয়ে গিয়েছিলাম, আর কেয়া যেন নেফারতরি। অন্তত সেরকমই মনে হয়েছিল তখন। সকালে আবার তত শিওর নই। নিজের থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকেই দেখা তো। তাছাড়া উচ্চতা বদলে যাওয়ার একটা ব্যাপার ছিল যাতে সংশয় তৈরি হয়। প্রথমে দেখছিলাম, যেন ভিক্টোরিয়ার সামনে বসে গল্প করছি দুজনে; কেয়ার মুখের বাঁ পাশ দেখা যাচ্ছিল - রোদ পড়েছে গালে , ওর কানে ঝোলা দুল, ময়দানের হাওয়ায় হাওয়ায় চুল উড়ছে;  দু হাতে হাঁটু বেড় দিয়ে বসেছে কেয়া- ঘড়ি, হাল্কা গয়না, পায়ের পাতা - চটির স্ট্র্যাপবিহীন; নিজেকেও স্পষ্ট দেখলাম- শরীরের ভার দুহাত মারফত ঘাসে রেখে পা টানটান ছড়িয়ে দিয়েছি। আমাদের পিছনে ঘন সবুজ ঘাস পেরিয়ে থামওলা অট্টালিকা- ভিক্টোরিয়াই হয়তো- ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে গিয়ে খেয়াল করলাম থামগুলো ক্রমশ উঁচু হচ্ছে -হচ্ছে তো হচ্ছেই- সেই সঙ্গে আমিও লম্বা হয়ে চলেছি, ঘাস টাস, কেয়ার প্রোফাইল কিছুই আর দেখা যাচ্ছে না। চোখের সামনে শুধু নীল পর্দা সরে সরে যাচ্ছে, যেন একটা গল্পের অতি দ্রুত পট পরিবর্তন ঘটছে- কী হতে চলেছে আন্দাজ করতে না পেরে  পাঠক বিমূঢ় হয়ে পড়ছে ফলত। আমার মাথা টলটল করছিল, মনে হচ্ছিল পড়ে যাব। তারপর লিফট থামার মত ঝা...